প্রকাশ্যে এলো ২০০ বছর আগের পবিত্র কাবা শরীফের ছবি– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিলাম সংস্থা সোথেবি’স হাউজ সম্প্রতি বিরল কিছু ঐতিহাসিক ছবি নিলামে তুলছে। এসব ছবির মধ্যে ১৭৯১ সালে প্যানারোমিক এঙ্গেলে আঁকা পবিত্র কাবা শরীফের একটি ছবিও রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজ জানায়, বাঁধাই করা ৪৩০X৮৬৫ মি’মি ছবিটিই সে সময়ের সবচেয়ে বড় ছবি। ছবিটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজ যাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে এসে সমবেত হচ্ছেন।
তখনকার আরাফাতের ময়দান এখনকার মতো ছিল না। ছবিতে দেখা গেছে চারদিকে পাহাড়, বেশ কিছু স্থাপনা আর বসতির মাঝখানে অনেকটা জায়গাজুড়ে অবস্থান করছে পবিত্র কাবা শরীফ।
১৭৯১ সালে ইস্তাম্বুলের পেরায় সংঘটিত অ’গ্নি’কা’ণ্ড থেকে মাত্র কয়েকটি কপি ছবি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন এগুলো অপ্রয়োজনীয়, অকেজো হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। ১৮শ’ শতকের প্রখ্যাত তুর্কি কূটনীতিক ইগনেস ডি মুরা’দজা ডি’অহসন-এর তত্ত্বাবধানে ছিল ছবিটি।
আরব নিউজ জানায়, নিলামে এই বিশেষ ছবিটির আনুমানিক মূল্য ধরা হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ১৮ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ লাখ থেকে ২১ লাখ টাকা)। এ ছাড়া ১৮৪০ সালের পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদিনার দুটি অঙ্কনকৃত ঐতিহাসিক ছবিও নিলামে তুলছে সোথেবি’স হাউজ। ১৩ মে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বনবীর (সা.) ১৪০০ বছর আগের যে বাণী সত্য প্রমাণ পেল বিজ্ঞান….
আল্লাহর হুকুম এবং তার রাসূল হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর দেখানো পথ যারা অনুসরণ করবেন তারা জান্নাতে যাবেন। সেখানে তারা পরম শান্তিতে বসবাস করবেন। যার শুরু আছে, শেষ নেই। জান্নাতিদের জন্য সেখানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নেয়ামত আল্লাহর দিদার দর্শন।
জান্নাতের নেয়ামত, সুখ শান্তি, ঐশ্বর্য সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বহু বর্ণনা রয়েছে। জান্নাতে প্রবেশের জন্য আটটি দরজা রয়েছে। মর্যাদা অনুযায়ী এসব দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন যারা সফল হয়েছেন.. জান্নাতের আটটি দরজার প্রত্যেকটিতে দুটি করে পাল্লা রয়েছে। নবী কারিম (সা.) দুই পাল্লার মধ্যবর্তী জায়গা কতটা প্রশস্ত সে সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
হাদিসের বিশুদ্ধ গ্রন্থ মুসলিম শরিফের এক হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন, জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মাঝখানের প্রশস্ততা মক্কা শরিফ থেকে বাহরাইনের হাজার অথবা মক্কা শরিফ থেকে সিরিয়ার বুশরার দূরত্বের সমান। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে মহানবী (সা.) এ বাণী দিয়েছেন। নবী যদি বলতেন, জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা শরিফ থেকে হাজার পর্যন্ত।
তাহলে এ নিয়ে এ মুহূর্তে হয়তো আলোচনা হতো না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেছেন, অথবা জান্নাতের দুই দরজার মধ্যবর্তী দূরত্ব মক্কা শরিফ থেকে বুশরার দূরত্বের সমান। মহানবীর এ কথায় স্পষ্ট যে, মক্কা থেকে হাজার বা মক্কা থেকে বুশরার দূরত্ব সমান। সম্প্রতি স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে পাওয়া ছবিতেও দেখা গেছে মক্কা থেকে বুশরা এবং মক্কা থেকে হাজার একই দূরত্বে অবস্থিত।
রোববার ইসলাম প্র্যাকটিস নামে একটি ফেসবুক পেজ তাদের এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেছে। সেখানে স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, মক্কা থেকে সিরিয়ার বুশরার দূরত্ব এক হাজার ২০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে মক্কা শরিফ থেকে বাহরাইনের হাজারের দূরত্বও এক হাজার ২০০ কিলোমিটার।
৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন শেষ নবী ও রাসূল হজরত মুহাম্মদ (স.)। ৪০ বছর বয়সে তিনি আল্লাহর তরফ থেকে নবুওয়াত লাভ করেন। ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করেন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। দীর্ঘ ২৩ বছর একটু একটু করে প্রয়োজন অনুযায়ী মহানবীর (সা.) ওপর কোরআন নাজিল হয়। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ওফাত লাভ করেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন